blogging
My Blog
ভালোবাসার গল্প-Love story
Bangla Is A New Story Of "boba Boo"-বাংলা "বোবা বউ" এর একটি নতুন গল্প
Bangla Is A New Story Of "boba Boo"-বাংলা "বোবা বউ" এর একটি নতুন গল্প
বোবা বউ
নীরব হাসান শান্ত
--------------------------------------------------------------------
পর্ব:১
----------------------------
অফিসে বসে বসে ফেইসবুক গুতাচ্ছিলাম এমন সময় আম্মুর ফোন।
.
-কিরে শান্ত তোর না আজকে বউ
দেখতে যাওয়ার কথা।
এখনো অফিসে
কি করিস?[অনেকটা রাগী কন্ঠে মা]
.
((বউ বউ বউ
এই কথাটা শুনতে শুনতে কানটা
একেবারে ভারি হয়ে
যাচ্ছে।))
.
-তোমরা যাও আমি যেতে পারবো না[শান্ত ]
.
-কি বললি?
তাড়াতাড়ি আয়!
তোর আব্বু আর আমি সেই কখন থেকে রেডি হয়ে বসে আছি।[আম্মু]
.
((ইচ্ছা না থাকা সত্বেও
অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় আসলাম।))
.
-এইতো বাবা
এসে গেছিস তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে নে।[আম্মু]
.
-আমি রেডিই আছি।
চলো।[শান্ত )
.
((দেখতে দেখতে পাত্রীর বাড়ির কাছে চলে আসলাম।
শুনেছি পাত্রী নাকি আব্বুর ফের্ন্ডের মেয়ে।))
.
((অনেকক্ষন যাবত বসে আছি।
কিন্তু পাত্রী আসার কোনো নাম গন্ধ নাই।
মনে হয় আটা-ময়দা লাগাচ্ছে।
মাথা নিচু করে ফোন টিপছিলাম।
এমন সময় শরবতের
একটা গ্লাস
কে যেনো
সামনে বাড়িয়ে দিলো।
.
ফোন টিপতে টিপতেই এক হাতে গ্লাসটা নিয়ে একটা চুমুক দিলাম।))
-উহু উহু।[শান্ত ]
.
-কি হলো বাবা তুই ঠিক আছিস তো?[আম্মু]
.-হু আমি ঠিক আছি।[মেয়েটার দিকে তাকিয়ে থেকেই]
.
((এটা কি মানুষ?
নাকি পরী?
মানুষ এতো সুন্দর হয় কি করে?)).
।
-কি মেয়ে পছন্দ হয়েছে মাই সন।[আব্বু]
.
-আমি ওনার সাথে একটু আলাদাভাবে কথা
বলতে চায়![মাথা নিচু করে]
.
((আমার কথাটা
শুনে সবাই কেমন স্তব্ধ হয়ে গেলো!
কেউ কোন কথা বলছে না!))
.
-বিয়ের পর যত পারিস কথা বলিস।
এখন বলতে হবেনা।
মেয়ে পছন্দ হয়েছে কিনা এটা বল?[আম্মু]
.
-কিন্তু আম্মু
আমি যার সাথে সারাটা জীবন কাটাবো।
তার সাথে কথা বলার কি দরকার নেই আমার?
তার ভালো-মন্দও তো জানতে হবে।[শান্ত ]
.
((আম্মু আমার কথা শুনে কিছুই বললো না!
চুপ করে
নিচের দিকে তাকিয়ে বসে রইলো।))
.
-হু বাবা যাও।
মা যা ওকে তোর রুমে নিয়ে যা।[মেয়ের বাবা]
.
((মেয়েটা আমাকে
হাত দিয়ে ইশারা করলো উপরে আসার জন্য।
মেয়েটার পিছু পিছু হাঁটতে হাঁটতে
একটা রুমের মধ্যে গেলাম।
.
রুমে ঢুকে আরও একটু অবাক হলাম।
পুরো রুমটা পরিপাটি করে সাজানো।
বিচানার ওপর ইয়া বড় বড় দুইটা পুতুল।
এতো বড় মেয়ে
এখনো বাচ্চাদের মতো
পুতুল নিয়ে খেলা করে এটা ভেবে
আরও হাসি পাচ্ছে।
.মেয়েটা রুমের এক কোনে দাড়িয়ে
আমার কার্যক্রম দেখে মিটিমিটি হাঁসছে!
ও ও মেয়েটার নামটাই
তো এখনো
জানা হলোনা!))
.
-নাম কি আপনার?[মেয়েটাকে উদ্দেশ্য করে]
.
((মেয়েটা কিছু না বলে
মাথা নিচু করে
ঠিক জায়গায় দাড়িয়ে রয়েছে!
ভাবলাম হয়তো শুনতে পাইনি।
তাই আবার জিঞ্জাস করলাম।))
.
-নাম কি আপনার।[শান্ত ]
.
((আবারও মেয়েটা কোনো উওর না দিয়ে
মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে!
ভালোকরে তাকিয়ে দেখলাম
মেয়েটার চোঁখ
দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।))
.
-আরে আপনি কাঁদছেন কেনো?
আপনার কি এই বিয়েতে মত নেই?
বা আমাকে কি আপনার পছন্দ হয়নি? [শান্ত ]
.
((মেয়েটা এবার একটু এগিয়ে এসে টেবিল থেকে
একটা কলম ও খাতা নিয়ে কি জেনো লিখলো।
তারপর আমার দিকে কাগজটা
এগিয়ে দিলো।
.
কাগজের লেখাগুলো এইরকম-))
(("আসসালামুআলাইকুম।
আমার নাম জেনিয়া; আপনাকে আমার
পছন্দ হয়েছে।
.
তবে কি জানেন; আমি জন্ম থেকেই বোবা!
কথা বলতে পারিনা।
জানি এটা শুনার পর আপনিও চলে যাবেন!"
এর আগেও অনেকে এসেছে সবাই যখন শুনেছে আমি বোবা!"
তখন আর কেউ; কথা বাড়ায়নি।""
.
কাগজটা পড়ে
হাসবো নাকি কাদবো কিছুই বুঝতে পারছি না।
মেয়েটা মানে
জেনিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখি
জেনিয়া কাঁদছে।
ও হয়তো ভাবছে
ও সপ্নটা এখানেও সপ্নটা এখানেই শেষ।
.
কিন্তু না!
ওর সপ্নটাকে আমি শেষ হতে দিবোনা।
আমি ওর মতো একজনকেই চেয়েছিলাম!))
.
-জেনিয়া আমি তোমাকে বিয়ে করতে চায়!"
তোমার কি কেনো
আপত্তি আছে[শান্ত ]
.
((জেনিয়া হয়তো নিজের চোঁখকেই বিশ্বাস
করতে পারছে না।
.
জেনিয়া দুটো হাত এক করে ইশারার মাধ্যমে বুঝাতে চাইলো যে))
;
-আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
যা তোমার কল্পনার
বাইরে!
আমার এ মন সারাক্ষন তোমার কাছে
পড়ে থাকবে![বুকে হাত দিয়ে ইশারার মাধ্যমে]
.
জেনিয়াকে নিয়ে নিচে আসলাম।
এসে দেখি সবাই মন খারাপ করে বসে আছে!
তারা হয়তো ভাবছে
সবকিছু জানার পর আমি জেনিয়াকে বিয়ে করতে রাজী হবোনা!
.
- মাহিন মেয়ে কেমন দেখলি বাবা?
তোর পছন্দ হয়ছে?[আম্মু]
.
-হু পছন্দ হয়ছে এবং সবকিছু জানিও।
মা আমি আজি
জেনিয়াকে আংটি পড়াতে চায়!(শান্ত )
.
-ওয়েলডান মাই বয়।[আব্বু]
.
((তারপর জেনিয়াকে আংটি পড়িয়ে
বাসায় আসলাম।
.
শুক্রবার মানেই অফিস ছুটি।
তাই অনেকবেলা পযর্ন্ত ঘুমাচ্ছিলাম।
হঠাৎ করেই কানের মধ্যে কে জেনো
সুরসুরি দিতে লাগলো।
.
চোখ মেলে সামনে তাকিয়েই দিলাম দৌড়।))
.
-আম্মু ভূত ভূত।[দৌড়ের আম্মুর কাছে গিয়ে]
.
-হা হা।
ওটা তোর জেনিয়া ভূত।[আম্মু]
.
কিহ আমার সাথে মজা দাড়াও দেখাচ্ছি তোমার মজা।
.
চলবে...!
বোবা বউ
পর্ব:২
--------------------------------
((চুপি , চুপি রুমে গিয়ে পিছন -দিক থেকে
জেনিয়াকে ঝরিয়ে ধরলাম।
জেনিয়া আমাকে ছাড়াতে চেষ্টা করেও
ব্যর্থ হলো।))
.
-কি হলো ভূত ম্যাডাম!
আমাকে ভয় দেখানোর জন্য
আপনাকে
সাস্তি পেতে হবে![ওর কানে কানে বললাম]
.
জেনিয়া আমাকে এক ঝাটকায় ছাড়িয়ে নিয়ে হাতের
ইশারার ' মাধ্যমে বললো-
.
-বিচানার-
কি অবস্থা করেছো দেখছো?
আবার বড় বড় কথা বলা হচ্ছে না।[চোঁখ গরম
করে জোনিয়া]
.
-ওমা স্বামীর জন্য দেখি ভূত
ম্যাডামের
আবার দরদও হয়।
[শান্ত ]
.
-ঐই আবার ফাজলামো করছো।
দাড়াও
বার করছি তোমার ফাজলামো।[রুম থেকে বের হতে হতে ইশারায় বললো জোনিয়া]
.
-বাব্বাহ দেখিতো আমার বোবা বউ কি করে?(শান্ত )
.
((কম্বলটা টেনে বিচানার ওপর আবার
ধপাস করে শুয়ে
গান শুনতে লাগলাম!
.
কিছুক্ষন পর দেখি দুটো ভূত!
ও চরি একটা ভূত ও একটা মানুষ।
আমার দিকে অগ্নিমূর্তির মতো
তাকিয়ে রয়েছে।))
.
-কিরে শান্ত তুই বউমাকে কি করেছিস।[আম্মু]
.
-আমি কি করলাম?
আমিতো ওকে কিছুই বলিনি।
ঐ তোমাকে -আমি কি বলেছি হা।[জেনিয়ার দিকে তাকিয়ে]
.
((জেনিয়া আম্মুকে হাতের ইশারার মাধ্যমে
বললো;))
-আমি নাকি ওর গলা টিপে ধরেছি!(জোনিয়া)
.
-কিরে পাভেল বউমা এসব কি বলছে[আম্মু]
..
-এ এটা তো ডাহা মিথ্যা কথা!
ওকে কেনো গলা টিপে ধরতে যাবো! সত্যি আম্মু বিশ্বাস
করো!
আমি ওকে গলা টিপে ধরিনি!
ও মিথ্যা বলছে![একটু কাঁদো কাঁদো গলায়]
.
-তাহলে কি বউমা মিথ্যা বলছে?
তোর যদি ওকে
পছন্দ না হয় আমাদের বলবি।
তাই বলে কি গলা টিপে ধরবি?[রাগী কন্ঠে বললো আম্মু ]
.
((কি বলবো বুঝতে পারছি না।
বউয়ের দিকে তাকিয়ে দেখি
বউ আমার মিটিমিটি হাসছে।))
.
-আর যদি কখনো শুনেছি তো
তোর খবর আছে এই বলে রাখলাম।[রুম থেকে বের হয়ে গেলো আম্মু ]
.
((আসতে না আসতেই মা দেখি
বউ ভক্ত হয়ে গেছে!
নে এবার ট্যালা সামলা।
জেনিয়াও মায়ের পিছু পিছু যেতে যেতে পিছনে ফিরে এক
হাতে
বললো;))
.ইশারা দিয়ে বললো-
-উচিত শিক্ষা হয়েছে।
কেমন দিলাম।
আরও ঝরিয়ে ধরবে আমাকে?[হেঁসে হেঁসে বললো জোনিয়া]
.
((সকাল সকাল মায়ের মুখে ঝাড়ি।
আল্লাই জানে দিনটা আজকে কেমন যাবে।
.
ফ্রেশ হয়ে
অফিসে যাবার জন্য রেডি হচ্ছিলাম।
এমন সময় দেখলাম
জেনিয়া আমার পিছনে দাড়িয়ে আছে।))
.
-ঐ আমার টাইটা একটু বেধে দাওনা।[একটু ভালোবাসা দিয়ে বললাম]
.
-আমি পারবো না।
এতো দিন
তো ঠিকি নিজে নিজে বেধেছো!
আজকে কি হলো হা?[জোনিয়া]
.
-ঠিক আছে দিতে হবেনা।আমি নিজে নিজেই বেধেঁ নিচ্ছি।[রাগ
করে বললাম]
.-আমার বরটা কি রাগ করছে?[জেনিয়া]
.
-না রাগ করবো কেনো?
রাগ করার
কি আছে?
আমিতো কারো কেউনা![অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে]
.
-ওলে বাবা লে।
এতো রাগ আমার মিষ্টি বরটার?
আসো টাইটা আমিই বেধে দিচ্ছি।[জোনিয়া]
.
((তারপর জেনিয়া আমার টাই
বেধেঁ দিতে লাগলো।
আমি ওর কাজল কালো চোঁখের দিকে তাকিয়ে
মিষ্টি
চেহারাটা দেখছি।))
.
-এই ভাবে কি দেখো?[হাতে ইশারা করে জোনিয়া ]
.
-তোমার ঐ চোঁখদুটো দেখছি।
তুমি সত্যিই
অনেক সুন্দর।[শান্ত ]
.
((জেনিয়া অনেকটা লজ্জা পেয়ে আমার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে
হাতে ইশারা করলো;))
.
-এতো দেখতে হবেনা! দেখছো কয়টা বাজে?
অফিসের সময় হয়ে গেছে অফিসে যাও।[জেনিয়া]
.
-ঐ শুনো না।[শান্ত ]
.
-আবার কি?[রাগী চোঁখে জোনিয়া]
.
-চোঁখটা একটু বন্ধ করোনা।
একটা সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য[মিথ্যা কথা সব চুমু খাওয়ার
ফন্দি]
.
-কি সারপ্রাইজ।
হু এইযে চোখঁ বন্ধ করলাম।[চোঁখ বন্ধ করে]
.
-উম্মাহ.........![টোঁঠে টোঁঠ রেখে]
.
আসলে জোনিয়া যা বলে তা সব ইশারার দারা বোঝায়া আমার দিকে ইয়া বড় বড়
চোঁখ করে
রাগী লুকনিয়ে তাকাচ্ছে!
তাড়াতাড়ি কেটে পড়ি।
এখানে থাকলেই এখন আম্মুর কাছে নালিশ করবে বউটা!
.
অফিসের ব্যাগটা নিয়েই দিলাম এক দৌড়।
একদৌড়ে গাড়িতে এসে বসলাম।
.
দেখতে দেখতে অফিসে চলে আসলাম!
অফিসে বসে আছি অনেকক্ষন ধরে।
কিন্তু কাজে মন বসাতে পারছি না!
বারবার বউটার মিষ্টি চেহারাটা চোঁখের সামনে ভেসে উঠছে!))
.
-আসতে পারি মাহি সাহেব?[স্যার]
.
-আরে স্যার আপনি?
আপনি কেনো আসতে গেলেন?
আমাকে খবর দিলেই তো পারতেন
আমিই যেতাম।[শান্ত ]
.
-নো প্রভলেম মাই বয়।
শুনেছি বিয়ে করে ফেলেছো?
তা দাওয়াত তো এখনো পাইনি![স্যার]
.
-স্যার বিয়ে করিনি
এখনো!
শুধু আংটি পড়িয়ে রেখেছি!
তাই আর বলিনি কাউকে![শান্ত ]
.
-ওয়েলডান মাই বয়!
এতো দিনে একটা কাজের কাজ করেছো।
তা তোমার মুখে এতো লিপস্টিকের চিহ্ন
কেনো?
নাকি বউকে সাজাতে গিয়ে নিজেই সেজে ফেলেছো?
[লজ্জা লজ্জা ভাব করে]
.
((এইরে খাইছে আমারে।
জেনিয়ার টোঁঠের লিপস্টিক আমার মুখে লেগেছে
তা মুছতেই ভুলে গিয়েছিলাম!))
.
-না মানে স্যার[মাথা নিচু করে কিছু বলছি না]
.
-বুঝতে পেরেছি মাই বয়!
যে কারনে এসেছিলাম।
আজকে তোমার ছুটি।
শুধু কাজ করলে তো হবেনা
নতুন বউকে একটু সময় দেয়াও দরকার।
বেস্ট অফ লাক মাই সন।
.
.
হুর্রে!
বাসায় গিয়ে আজকে জেনিয়ার সাথে ইচ্ছামতো দুষ্টুমি ও
রোমান্স করতে পারবো।
ভাবতেই কেমন জানি লজ্জা লাগছে।
.
চলবে...!
বোবা বউ
পর্ব:৩য়
--------------------------------
তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসলাম
জেনিয়ার সাথে রোমান্স করবো বলে।
-মা মা জেনিয়া
কোথায়?
জেনিয়াকে তো কোথাও দেখছি না![শান্ত]
-জেনিয়া তো বাসায় চলে গেছে।[আম্মু ]
-বাসায় চলে গেছে
মানে?
ওকে তুমি বললে না
আমি না আসা পর্যন্ত
যাতে
অপেক্ষা করে।[মন খারাপ করে]
.
-দেখো বোকা ছেলে বলে কি?
ওকে তো তুই এখনো বিয়ে করিসনি!
শুধু আংটি পরিয়ে রেখেছিস।
লোকজন দেখলে কি বলবে বল?[মাথায় হাত রেখে]
.
-যাই বলুক আমার
জেনিয়া চাই।
চলো।[শান্ত ]
.
-কোথায়[আম্মু]
.
-জেনিয়াদের বাসায়।
আজকেই বিয়ে করে নিয়ে আসবো ওকে।
[মাথা নিচু করে]
.
-তোর কি হয়েছে?
তুই ঠিক আছিস তো?
[আম্মু]
.
কিছু না বলে
মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি।
কিছু ভালো লাগছে না।
এই অল্প কয়দিনে জেনিয়ার প্রতি অনেক
দুর্বল হয়ে গেছি আমি।
.
-যা বাবা ফ্রেশ হয়ে একটু রেস্ট নে।
আমি দেখছি কি করা যায়।[আম্মু]
.
হাঁটতে হাঁটতে
নিজের রুমে চলে আসলাম।
ফ্রেশ হয়ে অল্প নাশতা করে ঘুমের রাজ্যে
হারিয়ে গেলাম।
.
ঘুম থেকে ওঠে তো
অনেক অবাক হয়ে গেলাম।
রুমটা বেলুন দিয়ে সাজানো।
."হেপি বারর্ডে টু ইউ!
হেপি বারর্ডে টু ইউ !"
হেপি বারর্ডে টু ইউ আওয়ার প্রিন্স!"[সবাই একসাথে]
.
ও সিট!
আজকে আমার জন্মদিন মনেই ছিলোনা!
.
একি জেনিয়ার আব্বু আম্মুও তো দেখছি
এখানে!
নিশ্চয় আম্মু ওনাদের আসতে বলেছে।
কিন্তু জেনিয়া কোথায়?
.
-আম্মু জেনিয়া কোথায়?[ঘুম ঘুম চোঁখে]
.
-জেনিয়া আসিনি বাবা।[জেনিয়ার আব্বু]
.
-আসেনি মানে?
কেন কি হয়েছে ওর?
[রাগী কন্ঠে]
.
কেউ কিছু না বলে
সবাই মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে!
হঠাৎ করেই ফোনে একটা টেক্স আসলো!
.
"আমি জানি!
তুমি হয়তো ভাবছো আমি কেনো আসিনি!
আমি বোবা!
কথা বলতে পারিনা!
আজকে তোমার জন্মদিনে তোমার অনেক ফ্রেন্ড আসবে!
ওদের সাথে যখন আমাকে পরিচয় করিয়ে দিবে আমি তোমার স্ত্রী!
তখন ওরা আমার সাথে কথা বলতে চাইবে।
কিন্তু আমিতো বোবা।
যখন শুনবে আমি কথা বলতে পারি না।
তখন ওরা অনেক উপহাস করবে।
তুমি অনেক কষ্ট পাবে।
তাই
ইচ্ছা থাকা সত্বেও আসতে পারলাম না!"
.
টেক্সটা পড়ে চোঁখের পানি ধরে রাখতে
পারলাম না!
চোঁখ দিয়ে টপ টপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে লাগলো!
.
পাগলিটা আমাকে এতো ভালোবাসে!
কিন্তু আমারও সব সুখযে
ওকে ঘিরে।
.
.
-কি হয়েছে?
কাঁদছিস কেনো?[আম্মু]
.
-তোমরা একটু অপেক্ষা করো!
আমি গিয়ে জেনিয়াকে নিয়ে আসছি![চোঁখের জল মুচতে মুচতে]
.
-ঠিক আছে যা।
বউ পাগলা;ছেলে আমার।
[বলেই সবাই একসাথে হেঁসে ওঠলো]
.
দৌড়ে বাসা থেকে নামতে গিয়ে
কিসের সাথে জোনো ধাক্কা লেগে হাত অনেকটা কেটে যায়।
কিন্তু ঐ দিকে আমার কেনো খেয়াল নেই।
.
নিচে নেমে বাইকটা স্টার্ট করে
জেনিয়াদের বাসার সামনে এসে দাড়াই।
বাসার বেল চাপতেই দরজা খুলে দিলো চাচা[কাজের লোক]
;
-চাচা জেনিয়া কোথায়?[শান্ত ]
.
-আরে মাহিন বাবা যে।[চাচা আমাকে বাবা বলে ডাকে]
জেনিয়া মামুনি যে সেই কখন থেকে দরজা অফ কইরা বইসা রইছে
দরজা খুলছে না!
আবার দুপুর থেকে কিছু খাচ্ছেও না![চাচা]
.
-ঠিক আছে চাচা আমি দেখছি।[শান্ত ]
.
আস্তে আস্তে চুপি চুপি সিড়ি দিয়ে ওপরে
উঠলাম!
জেনিয়ার রুমের ডানপাশে একটা জানালা আছে।
ঐটার কাছে গিয়ে
পর্দাটা টেনে ও কি করছে দেখতে চেষ্টা করলাম!
.
আমার ধারনাই ঠিক!
পাগলিটা কাঁদছে!
ওর কান্না দেখে নিজেকে ঠিক রাখতে পারছি না!
.
দরজার কাছে গিয়ে টোকা দিলাম।
কিন্তু পাগলিটা
দরজা খুললো না।
.
-ঐ কি হয়েছে দরজা খেলছো না কেনো?[দরজার এপাশ থেকে]
.
ভিতর থেকে কেনো আওয়াজ আসলো না।
কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকার পর পাগলিটা
দরজা খুললো।
.
-কখন এসেছো?[হাতে ইশারা করে বললো জোনিয়া ]
.
-এইতো এখন।
তুমি কাঁদছো কেনো?[কোনো কিছু না জানার ভান করে]
.
-কই কাঁদছি?
এই দেখো আমি কাঁদিনি![একটু হাসার চেষ্টা
করে]
.
-কি ভাবছো আমি কিছু বুঝিনা!
তুমি কাঁদছিলে আমি লুকিয়ে দেখেছি সেটা।[শান্ত ]
.
জেনিয়া কিছু না বলে চোঁখের
জলগুলোকে লুকাতে চেষ্টা করলো।
.
-কি জন্য?
কার জন্য আমি জন্মদিন পালন করবো হা?
আমি চাইনা জন্মদিন।
আমি চাইনা কিছু!
আমি যে শুধু তোকেই ভালোবাসি।
তুই কি তা বুঝিস না?[হাত দিয়ে ইশারা করে বুঝাতে চেষ্টা করলাম]
.
পাগলিটা কিছু না বলেই ঝরিয়ে ধরলো।
পাগলিটা মুখ
দিয়ে কি জেনো বলতে চেষ্টা করলো।
কিন্তু মুখ দিয়ে কেনো
শব্দ বের হলোনা।
শুধু চোঁখের অশ্রুগুলো
গড়িয়ে আমার বুকে ভিজিয়ে দিতে লাগলো।
.
হঠাৎ করেই পাগলিটা আমাকে দূরে সরিয়ে দিলো।
;
-কি হলো?[আমি]
.
পাগলিটা আমার হাতঁটাকে
একহাতে সামনে
তুলে ধরে অশ্রুশিক্ত চোঁখে বললো;
.
-হাত কি ভাবে কেঁটেছো হা?[চোঁখ গরম করে]
.
-না ও কিছুনা।
এমনি পড়ে গিয়ে ব্যাথা পেয়েছি[মিথ্যা বললাম]
.
পাগলিটা হয়তো আমার মিথ্যাটাকে ধরতে পেরে গেছে।
তাইতো আরও রাগী চোঁখে
আমার দিকে
তাকাচ্ছে।
.
-মিথ্যা বলবে না বলে দিলাম।
আমি তোমার চোঁখের দিকে তাকিয়েই বুঝতে পারি
তুমি সত্যি বলছো নাকি মিথ্যা বলছো[কোমরে হাত রেখে]
.
এইরে পাগলিটা তো দেখছি সত্যিই আমার
মিথ্যাটাকে ধরে ফেলেছে।
চোঁখের দিকে তাকিয়ে যদি মিথ্যা ধরে ফেলে তাহলে তো
প্রতিদিনি বাশঁ খেতে হবে।
;
-না মানে বাসা থেকে
বেরুনোর সময়
হাতে ব্যাথা পেয়েছি।[শান্ত ]
.
-ঐ তোকে কে বলেছিলো এতো পাগল হতে হা?
আমি কি
চলে যাচ্ছিলাম নাকি?[শার্টের কলার ধরে]
.
-বাহ রে তুমি কষ্ট পাবে আর আমি আনন্দ করবো এটা ভাবলে
কি করে?[চোঁখের দিকে তাকিয়ে]
.
-শান্ত সাহেবকে আর ঢপ দিতে হবেনা!
আমি যাবোনা ব্যস।[অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে মোবাইলে টেক্সট করলো]
.
-যাবে যাবে যাবে।[মুখটাকে শক্ত করে ধরে]
.
-যাবোনা যাবোনা
যাবোনা![হাতে ইশারা
করে]
.
-এ বললেই হলো যাবেনা।
দরকার হলে খলনায়ক মিশা ভায়ের মতো জোর করে
নিয়ে যাবো।[হ্যাচকা টান দিয়ে কোলে
তুলে নিলাম]
.
সাথে সাথেই
জেনিয়া আমার বুকের মধ্যে
"ডিসুম ডাসুম" নায়েক আরেফিন শুভর ফাইট শুরু করে যাচ্ছে।
.
চলবে.....!
বোবা বউ
পর্ব: ৪
জেনিয়াকে কোলে করে এনে বাইকের সামনে বসালাম।
বাইক স্টার্ট করতেই পাগলিটা আমাকে শক্ত করে ঝরিয়ে ধরলো।
আমি ওর চোঁখের দিকে তাকালাম।
ও লজ্জা পেয়ে আমাকে ছেড়ে দিলো।
.
বাইক চালাচ্ছি খুব আস্তে আস্তে।
পাগলিটাকে আমার হাতের দুই ফাঁকে বসিয়ে এক হাত বাইক চালাচ্ছি!
আর এক হাতে ঝরিয়ে ধরে রেখেছি!
রাস্তার লোকজন আমাকে আর জেনিয়াকে অবাক চোঁখে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে!
জেনিয়া হয়তো এটা লক্ষ্য করেছে
তাইতো এক হাতে ইশারা করলো বাই থামানোর জন্য!
.
আমি বাইকটা থামানোর সাথে সাথেই
পাগলিটা আমার হাতটাকে সরিয়ে দিয়ে
আমার পিছনে এসে বসলো।.
;
-কি ব্যাপার লজ্জা পেয়েছো।[জেনিয়ার মুখের কাছে মুখ নিয়ে]
.
জেনিয়া কিছু না বলে আমার দিকে বড় বড় চোঁখ করে তাকাচ্ছে।
এইতো সুযোগ!
পালিয়ে যাবে কোথায় জেনিয়া ম্যাডাম!
জেনিয়াকে পিছনে বসিয়ে রেখে বাইক স্টার্ট করলাম।
.
বাইক চলছে আপন গতিতে।
মাঝে মাঝে ইচ্ছে করেই ব্রেক করছি!
আর জেনিয়া হুমরি খেয়ে আমায় ঝরিয়ে ধরছে।
দেখতে দেখতে বাসার কাছে এসে এলাম!
জেনিয়া আমাকে কিছু না বলেই
মুখ ভেংচি দিয়ে
বাইক থেকে নেমে
বাসার মধ্যে গেলো।
.
আমিও জেনিয়ার পিছু পিছু বাসার ভেতরে আসলাম।
আমাকে আর জেনিয়াকে একসাথে আসতে দেখে আম্মু বললো
;
-এইতো বর বউ রেডি এখন শুধু শুভ কাজের বাকি![আম্মু]
.
আমি ও জেনিয়া দুজনেই মাথা নিচু করে চুপ করে দাড়িয়ে আছি।
;
-এই বিয়েতে তোমাদের মত আছে?[আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে কেউ একজন বললো]
.
আমি ও জেনিয়া দুজনেই মাথা নেড়ে হ্যাঁ সূচক উওর দিলাম।
;
-আলহামদুলিল্লা!
চলুন বিয়াই মশাই ওদের শুভ কাজটা সেরে ফেলি![হবু শ্বশুর আব্বু]
.
-হু চলুন।[আব্বু]
.
তারপর আরকি!
জেনিয়াকে ওর বাবা আমার মতো এখকান ভালো ছেমরার লগে বিয়া দিয়ে দিলো।
.
রাত ১২টা!
আজকে আমার #"বাসর রাত"
অথচ এখনো বন্ধুদের সাথে আড্ডায় ব্যস্ত!
হঠাৎ করেই কে যেনো কানে ধরে টেনে রুমের দিকে নিয়ে
যেতে লাগলো!
পিছনে ফিরে দেখি দাদি আমার কান ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
;
-দাদু করছো কি?
ব্যাথা পাচ্ছি তো![শান্ত ]
.
-ব্যাথা না একবার রুমে যা
দেখবি আমার সতীন তোর ব্যাথা
১মিনিটেই দূর করে ফেলেছে।[জেনিয়াকে দাদি মজা করে সতীন ডাকে]
.
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই
দাদি ধাক্কা দিয়ে আমাকে রুমে পাঠিয়ে দিলো!
জেনিয়াকে আমাকে রুমে ঢুকতে দেখে
বিচানা থেকে নেমে এসে সামাল করলো।
;
-বেঁচে থাকো মা বেঁচো থাকো।[রাগানোর জন্য মেসেজ করলাম]
.
-ঐ আমি তোমার মা?[চোঁখ গরম করে আবার মেসেজ দিলো]
.((জোনিয়া এর পর থেকে আমার সাথে কথা বললে মোবাইল দিয়ে মেসেজে দিয়ে বলে))
-না মানে।
বড়রা এসব বলে তো তাই বললাম।[শান্ত ]
.
-বড়রা বলবে বলে কি তুমিও বলবা নাকি হু।[জোনিয়া প্রচন্ড রেগে]
.
এইরে একটু মজা করতে গিয়ে তো এখন
বিপদে পড়ে গেছি!
.
-সরি আর বলবোনা[শান্ত ]
.
-তুমার কি মন খারাপ শাসন করেছি বলে?[চোঁখের সামনে পেপারটা তুলে ধরে]
.
-না তো।
তুমি শাসন করবে না তো কে করবে বলো।[ঢপ দিয়ে]
.
-হয়ছে হয়ছে এতো ঢপ দিতে হবেনা এখন ঘুমাও[হাতে ইশারার মাধ্যমে]
.
-ঠিক আছে।
কিন্তু দাদি যে বলছে
না ঘুমিয়ে বিড়াল মারতে!
বিড়াল কই পাবো?
আর কি দিয়ে মারবো?(শান্ত ]
.
-দাড়াও বিড়াল বার করছি!
আর মারার জন্যও সব ব্যবস্তা করা আছে![জোনিয়া]
.
-বাহ্।
সত্যিই তুমি আমার লক্ষীবউ!
কিন্তু এ এ এটা কি বের করছো?[শান্ত ]
.
-ক্রিকেট ব্যাট।
এটা দিয়েই তো বিড়াল মারবো।
আর সেই বিড়ালটা হলে তুমি![আমার দিকে এগিয়ে এসে বললো জোনিয়া ]
.
-না না প্লিজ ছক্কা মেরোনা আমাকে প্লিজ।
কাছে আসবেনা বলে দি..উম্মউম্মউম্ম।
.
-এটা কি হলো।[শান্ত ]
.
-বিড়াল মারা হচ্ছে
কোনো কথা হবেনা।
তোমাকে বিড়াল মারা শিখাবো আজ।[মুখ চেপে ধরে বললো জোনিয়া ]
.
সারারাত বিড়াল মেরে সকালে
একটু শান্তিতে ঘুমুচ্ছিলাম।
হঠাৎ করেই কে যেনো শরীরে ঠান্ডা পানি ঢেলে দিলো।
পাশে তাকিয়ে দেখি জেনিয়া।
.
-ঐ পানি দিলে কেন হ্যাঁ?[ঘুম ঘুম চোঁখে]
.
-বেশ করেছি।
কয়টা বাজে সেই খেয়াল আছে তোমার।
সারারাত বিড়াল মেরে এখন আবার ঘুমুচ্ছো।[জেনিয়া]
.
-তাই বলে পানি দিবা।দাড়াও আমিও তোমাকে ভিজাচ্ছি।[শান্ত ]
.
-ঐ না প্লিজ পাভেল না ঐ না।[দরজার দিকে দৌড় দিয়ে]
.
জেনিয়াকে দেখলাম ঠান্ডা পানিতে ভিজার ভয়ে দৌড়ে রাস্তায় চলে গেছে।
কিন্তু
এতো সহজে ছেড়ে দেবার পাএ তো আমি নয়!
.
তাই এক জগ ঠান্ডা পানি নিয়ে ওর কাছে গেলাম।
ও আবারও দৌড় দিলো।
.
কিন্তু হঠাৎ করেই
একটা গাড়ির সাথে ধাক্কা লেগে
ওর নিথর দেহটা মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
.
দৌড়ে ওর
কাছে গেলাম।
জেনিয়ার মাথা থেকে
প্রচুর রক্ত বের হচ্ছে।
কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেললাম ।
পুরো শরীরটা পাথরের মতো হয়ে গেছে।
চোঁখদিয়ে টপ টপ করে জল পড়তে লাগলো।
তাড়াতাড়ি করে ওকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম।
.
ডাক্তার ওকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যেতে লাগলো।
জেনিয়া আমার একটা হাত শক্ত ধরে
কি যেনো বলতে গিয়েও পারলো না।
শুধু ইশারার মাধ্যমে বললো ক্ষমা করে দিও
.
চলবে...!
বোবা বউ
পর্ব:৫ম।
-----------------------------
জেনিয়াকে
অপারেশন থিয়েটারে ঢুকানো হলো।
আমি চুপ করে মাথা নিচু করে
বসে বসে কাঁদছি!
কিছুক্ষন পর
আব্বু-আম্মু কি ভাবে যেনো
খবর পেয়ে
আসলো!
সাথে আমার সব বন্ধুবান্ধবও আসলো!
.
আম্মু আমার কাছে এসেই
;
-ঠাসসসসসস[আম্মু]
.
গালে হাত দিয়ে
কাঁদছি আর আম্মুর দিকে অবাক চোঁখে
তাকাচ্ছি!
কিসের জন্য চড় দিলো বুঝতে
পারছি না!
.
-তোর জন্য!
শুধু তোর জন্যই
মেয়েটার আজ এই অবস্থা!
কি এমন
দোষ করেছিলো মেয়েটা?
বোবা বলে কি ও
মানুষ না?
তাই বলে তুই...!
ছি ছি শান্ত
আমার ভাবতেও ঘৃনা হচ্ছে!
[আম্মু]
.
-বিশ্বাস করো আম্মু আমি ওকে......![শান্ত ]
.
-চুপ কর!
তোর আর একটি কথাও শুনতে ইচ্ছে হচ্ছেনা আমার! [আম্মু]
.
কি বলবো বুঝতে পারছি না!
আম্মু আব্বু সবাই
আমাকে এই ভাবে ভুল বুঝবে
কখনো ভাবিনি!
আম্মুর দিকে তাকিয়ে
আছি!
চোঁখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে!
.
কিছুক্ষন পর
অপারেশন থিয়েটার থেকে একজন ডাক্তার
বের হয়ে আসলো।
আমি দৌড়ে ডাক্তারের কাছে গেলাম!
.
-আঙ্কেল জেনিয়ার এখন কি অবস্থা?
ও ঠিক আছে তো?[কাঁদতে কাঁদতে]
.
-দেখ শান্ত এখনো কিছু বলতে পারবো না!
ওর গলায়
মারাত্নক রকমের
একটা রোগ ধরা পড়েছে!
ওটার অপারেশন করতে হবে!
বাঁচবে কিনা তাও সঠিকভাবে বলা যাচ্ছেনা!
[ডাক্তার]
.
-প্লিজ আঙ্কেল!
যত টাকা লাগে লাগোক!তবুও ওকে...[পুরোটা বলতে পারলাম না কাঁদার জন্য]
.
-আমরা আমাদের সবটুকু দিয়ে
চেষ্টা করবো!
বাকিটা আল্লাহর হাতে![ডাক্তার]
.
ডাক্তার আঙ্কেল
আবার অপারেশন থিয়েটার ঢুকে গেলেন!
আমি দরজার সামনে বসে কাঁদতে লাগলাম!
.
-কাদিস না দোস!
আল্লাহর ওপর ভরসা
রাখ সব ঠিক হয়ে
যাবে![নাঈমা]
.
-আমার জন্যই এসব হলো!কেনযে ওকে
পানি দিতে গেলাম!
ওর কিছু হলে আমি বাঁচবে না রে![শান্ত ]
.
-ভয় পাসনা!
দেখবি ইনশাআল্লা ভাবি সুস্থ হয়ে যাবে![দিপু]
.
বন্ধু কাকে বলে
আজকে আমি বুঝতে পারছি!
শুধু টাকা দিয়েই বন্ধুত্ব গড়া যায়না!
বিপদে পাশে থাকাই বন্ধুত্বের মূল উদ্দেশ্য!
.
রাত ১১টা কি
১২টা বাজে!
চোঁখে ঘুম নেই!
পাগলের মতো দরজার সামনে হেলান দিয়ে বসে আছি!
পাশে তাকিয়ে দেখলাম আম্মু ও আমার
সব বন্ধুরাও জেগে আছে!
.
মাথটা ভীষন ভারি হয়ে আসছে!
তবুও অনেক কষ্টে আস্তে আস্তে
আম্মুর কাছে গেলাম!
আম্মুর চোঁখগুলো লাল
গেছে!
.
ফরসা চেহারাটা
কেমন জানি মলিন হয়ে গেছে!
.
আম্মুর পায়ের কাছে গিয়ে বললাম
;
-আমাকে ক্ষমা করে দাও আম্মু!
বিশ্বাস করো
আমি ইচ্ছা করে এসব করিনি![পায়ে ধরে]
.
আম্মু কাঁদতে
কাঁদতেই
আমাকে ঝরিয়ে ধরলো!
.
-জেনিয়ার আব্বু-আম্মু আসলো না কেনো
আম্মু![আমি]
.
-ওনারা কালকের ফ্লাইটে কানাডা গেছে!
ফোন দিয়েছিলাম
এসব কিছু শুনে
আজকে আবার ফ্লাইটে উঠেছে![চোঁখের জলগুলো মুচতে মুচতে]
.
আব্বুকে দেখলাম
হেলান দিয়ে চেয়ারের ওপর বসে আছে!
চোঁখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে!
শার্টটা ভিজে গেছে!
মুখটা শুকিয়ে গেছে!
সবার এই রকম অবস্থা দেখে
নিজেকে ঠিক রাখতে পারলাম না!
.
হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলাম!
বন্ধুরা সবাই আমাকে সাত্বনা
দিতে লাগলো।
রাতে কেউ কিছু খাইনি!কাঁদতে কাঁদতে সবাইকে বললাম
রেস্টুডেস্ট থেকে কিছু
খেয়ে আসতে!
.
সবাই না করলো!
বন্ধুদেরকে বললাম বাসায় চলে যেতে!
ওরা যেতে না চাইলেও
ওদের কষ্ট হচ্ছে ভেবে জোর করেই বাসায়
পাঠিয়ে দিলাম!
আম্মু ও আব্বুকে বললাম কিছু খাবার জন্য!
কিন্তু খাবেনা বললো!
.
মাথাটা প্রচন্ড
ব্যাথা করছে!
চোঁখগুলো বন্ধ হয়ে
আসছে!
আস্তে আস্তে দরজার পাশে গিয়ে ধপাস করে বসে পড়লাম!
ফজরের আযান শুনতে পেলাম!
সম্ভবত সকাল হয়ে গেছে!
.
চোঁখটা মাএ
বুঝে আসছিলো!
এমন সময় দরজা ধাক্কার শব্দ শুনলাম!
চোঁখ মেলে তাকিয়ে
দেখি ডাক্তার আঙকেল অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হচ্ছে!
ডাক্তারের চোঁখে হতাশার চাপ!
দৌড়ে ডাক্তার আঙ্কেলের কাছে গেলাম!
.
-আঙ্কেল জেনিয়া এখন কেমন আছে?
ওর কেনো সমস্যা হয়নি তো? [হাতদুটো ধরে]
.
ডাক্তার আঙ্কেল
আমার কথার কেনো জবাব
না দিয়ে
নিচের দিকে তাকিয়ে আছে!
.
-কি হলো আঙ্কেল কথা বলছেন না কেনো?[কেঁদে কেঁদে]
.
-অপারেশন ভালোভাবেই হয়েছে!
তবে....!..[মন খারাপ করে]
.
-তবে কি আঙ্কেল?
প্লিজ আঙ্কেল কথা বলুন![চিৎকার করে কেঁদে]
.
-শান্ত সাহেব মিষ্টি নিয়ে আসেন গিয়ে!
আপনার স্ত্রীর নরমাল অপারেশনের সাথে
ভয়েস অপারেশনেও করা হয়েছে!
এখন থেকে আপনার স্ত্রী কথা বলতে পারবে!
.
তবে খুব সাবধান!
জোরে কথা বলতে গেলে আবার সমস্যা হতে পারে!তাই ঐদিকে
একটু খেয়াল রাখবেন।[পিট চাপড়ে দিয়ে]
.
মুখ দিয়ে
কেনো কথা বের হচ্ছেনা আমার!
চোঁখ দিয়ে
আগের থেকেও বেশি অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে!
তবে এটা দুঃখের না!
সুখের কান্না!
.
চলবে...!
বোবা বউ
পর্ব:৬ষ্ঠ ও শেষ পর্ব!
--------------------------------
আম্মু আমাকে এতো খুশি দেখে
আমার দিকে ছুটে
আসলো!
.
-কিরে শান্ত !
বৌমার কি খবর?
ডাক্তার কি বললো? [আম্মু]
.
আমি কাঁদতে কাঁদতেই আম্মুকে
ঝরিয়ে ধরে
সবকিছু খুলে বললাম। সবকিছু শোনার পর দেখলাম
আম্মুর চোঁখ দিয়েও অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
আব্বুর কাছে গিয়ে
আব্বুকেও সবকিছু খুলে বললাম।
আস্তে আস্তে সব বন্ধুদেরকেও ফোনের মাধ্যেমে জানিয়ে দিলাম!
.
হঠাৎ একজন নার্স এসে বললো
জেনিয়ার নাকি
ঙ্গান ফিরেছে!
আব্বু আম্মুকে সাথে নিয়ে রুমের ভিতরে গেলাম!
জেনিয়াকে দেখলাম হেলান দিয়ে বসে আছে!
.
-কেমন আছো মা?
এখন কি রকম ফিল করছো?[আম্মু]
.
জেনিয়া কিছু না বলে শুধু ফ্যালফ্যাল করে আমাকে দেখছে!
আমি ওর দিকে তাকিয়ে আছি!
ও কেনো কথা বলছে না কেনো?
তাহলে কি ডাক্তার...!
.
-তোমার কি কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে মা।[আব্বু]
.
জেনিয়া আবারও কিছু না বলে আমাদের দেখে
যাচ্ছে!
কি বলবো বুঝতে
পারছি না!
আমি কিছু বলতে যাবো তার আগেই
জেনিয়া আম্মুকে ঝরিয়ে ধরে
বলতে লাগলো-
;
-আপনারা আমার জন্য সারারাত
অনেক কষ্ট করেছেন!
জানিনা এর ঋন
শোধ করতে পারবো কিনা মা![কাঁদতে কাঁদতে]
.
জেনিয়ার মুখ থেকে
কথা শুনে আমিই
বোবা হয়ে গেলাম!
ওর ভয়েস এতো মধুর
হবে
কখনো ভাবতে পারিনি!
আমার মুখ দিয়ে কেনো কথা বের হচ্ছেনা!
শুধু ওর দিকে
একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি!
.
কিছুক্ষন পর দিপু,মোস্তফা ,হৃদয় নাঈমা ও
আমার
সব বন্ধুরা আসলো!
কিছুক্ষনের মধ্যেই
সবার মধ্যে
এক আনন্দের স্রোতধারা বয়ে গেলো!
.
দিপু,মোস্তফা ও নাঈমার খুশি দেখে কে!
সবগুলো হারামি মিলে আমাকে রুম থেকে বের করে দিলো!
রুমের বাহিরে
দাড়িয়ে আছি হঠাৎ করেই কে যেনো
পিছন থেকে ডাক দিলো!
পিছন ফিরে দেখি জেনিয়ার আব্বু আম্মু!
সম্ভবত এয়ারপোর্ট থেকে সোজা
এখানে চলে এসেছে!
.
-আসসালামুআলাইকুম!
কখন আসলেন মা?
[শান্ত ]
.
-এইতো কিছুক্ষন আগে!
এয়ারপোর্ট থেকে সোজা এখানে
চলে এসেছি!
তুমি আর বিয়াই ও বিয়াইনা কেমন আছে?
[শ্বাশুরি আম্মু]
.
-হু সবাই ভালো আছে মা!জেনিয়াও এখন
সুস্থ আছে!
চলুন ভিতরে চলুন![শান্ত ]
.
তারপর জেনিয়ার আব্বু আম্মুকে নিয়ে
রুমের ভিতরে গেলাম।
অনেকদিন পর
আব্বু-আম্মুকে পেয়ে
জেনিয়ার খুশি যেনো আর ধরে না।
সব খুশি যেনো আজকে এক হয়ে গেলো!
.
ডাক্তারের সাথে কথা বলে ওকে
বাসায় নিয়ে যেতে
চাইলাম!
কিন্তু ডাক্তার বললো
আরও কয়েকদিন পরে নেয়ার জন্য।
.
কয়েকটা দিন
অনেক হাসি আনন্দে কাঠিয়েছি
আজকে জেনিয়ার ছুটি!
আজকে ওকে
হসপিতাল থেকে
বাসায় নিয়ে আসবো!
তাই বসের কাছ থেকে তাড়াতাড়ি
ছুটি নিয়ে
নিয়ে হসপিতালে গেলাম।
.
তারপর হসপিতাল থেকে একেবারে
জেনিয়া ও সবাইকে নিয়ে বাসায় চলে আসলাম।
;
রাতের খাবার
খেয়ে সবাই মিলে কিছুক্ষন আড্ডা দিলাম।
তারপর ঘুমোতে গেলাম।
.
দরজা খুলে বিচানার
কাছে যেতেই
জেনিয়া আমার দিকে বালিশ
ছুড়ে মারলো!
;
-কি হলো
আমার জানটার?
হঠাৎ করেই এতো
রাগ করার কারনটা জানতে পারি![শান্ত ]
.
-ঐ একদম ভালোবাসা দেখাতে আসবে না বলে দিলাম!
তুমি জানো
এই ভাবে কথা বললে
আমি রাগ করে থাকতে পারিনা!
তবুও এইভাবে বলো কেন হা?[জেনিয়া]
.
হি হি! জেনিয়াকে জান বলে ডাকলে
ওর সব রাগ পানি হয়ে যায়।
তাই ডেকেছিলাম।
.
-ওকে আর ডাকবো না!
এই যে
কান ধরলাম।[মন খারাপ করে]
.
-হয়েছে হয়েছে।
যাও সোফার মধ্যে গিয়ে ঘুমাও!
আমার পাশে আর ঘুমোতে পারবে না![রাগী স্বরে]
.
-তুমি কি আমাকে ছাড়া একা একা
ঘুমোতে পারবে?[একটু বেশিই ইমোশনাল হয়ে]
.
অবশ্যই পারবো!
যাওতো আমার খুব ঘুম পাচ্ছে!
ডিস্টাব করোনা![বিরক্তিকর ভাবে]
.
জেনিয়া হঠাৎ করেই
এই ভাবে পাল্টে যাবে ভাবিনি কখনো!
অশ্রুশিক্ত চোখে ওর দিকে তাকিয়ে আছি!
খুব কান্না পাচ্ছে!
জেনিয়া আমার
দিকে একবার
তাকিয়ে আবার অন্যদিকে
মুখ ফিরিয়ে ঘুমিয়ে গেলো!
.
বালিশটাকে নিয়ে সোফার মধ্যেই শুয়ে
চোখটা বুজে রইলাম।
কিছুতেই ঘুম
আসছে না!
বুকে চিন চিন করে
ব্যাথা শুরু হতে
লাগলো!
.
বিচানার দিকে চোখটা পড়তেই অবাক হয়ে গেলাম।
দেখলাম জেনিয়াও
ঘুমোয় নি!
শুয়ে শুয়ে
একবার এপাশ আরেকবার ওপাশে যাচ্ছে!
.
আমি জানতাম
আমাকে ছাড়া
ও কিছুতেই ঘুমোতে পারবে না!
এখন আমার ভাব নেয়ার পালা!
.
-ঐই শুনো না!
তুমি কি ঘুমিয়ে গেছো?[জেনিয়া]
.
আমি কিছু না বলে চুপ করে
ঘুমের মতো ভান করে শুয়ে আছি।
.
-বিশ্বাস করো আমি ইচ্ছা করে করিনি!
আমি তোমার সাথে মজা করেছি!
তুমিতো জানো
তোমাকে ছাড়া আমি ঘুমোতে পারিনা![বিচানা থেকে নেমে আমার শরীরে ধাক্কা দিয়ে]
.
-কি সমস্যা কি হা?
যাওতো এখান থেকে ঘুমোতে দিবে নাকি?
যত্তসব![ধমক দিয়ে]
.
পাগলিটা আমাকে ঝাঁপটে ধরে
কাঁদতে লাগলো।
ওর চোখে জল একদম সহ্য করতে পারিওর চোখে জল একদম সহ্য
করতে পারিনা।
বুকটা ফেটে যায় ওর চোখে জল দেখলে।
.
না আর কাঁদাতে
পারবো না পাগলিটাকে!
.
-তুমিই তো বললে তখন সোফায় ঘুমোতে[আমি]
.
-আমি ভেবেছিলাম তুমি জোর করেই
বিচানায় শুবে বাট তুমি তা করোনি।
খুব কষ্ট হচ্ছিলো একা থাকতে![কান্না কান্না কন্ঠে]
.
-দোর পালগি।
আমার কম কষ্ট হয়েছে বুঝি।[ঝরিয়ে ধরে]
.
-হুম আমার পাগল।
এখন বিচানায় চলো।[একটা পাপ্পি দিয়ে]
.
তারপর জেনিয়াকে কোলে নিয়ে
বিচানায় গেলাম।
ওর শরীরে হাত দিতেই অনেকটা কেঁপে
ওঠলো।
.
ও আমাকে শক্ত করে ঝরিয়ে ধরলো।
আমি ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছি।
ওর আলতো লিপস্টিক মাখা টোঠদুটো অল্প অল্প কাঁপছে।
আমার শরীরে এক অন্যান্য শিহরন
বইতে লাগলো।
.
আলতো করে ও ওর টোঠেদুটোকে স্পর্শ
করলাম।
ও লজ্জায় আমাকে ঝরিয়ে ধরে!
চোখদুটো বন্ধ করে; কোমল হাতে মাথাটাকে শক্ত করে মুখের কাছে নিয়ে
ওর টোঠের সাথে মিলিত করে দিলো।
দুজনেই আবদ্ধ হলাম এক পবিএ
ভালোবাসার বন্ধনে।
.
বাকিটা বলতে গেলে;
জেনিয়া
আমাকে বল হিসেবে
চার-চক্কা মারা শুরু করে দিবে!
এমনিতেই মনে হয়
রাগে ফুলছে।
হি হি।
[সমাপ্ত]
------------------------------------------------------------
প্লিজ কমেন্ট এবং শেয়ার
------------------------------------------------------------


0 Comments: